কাঙ্ক্ষিত উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে শাসক দল প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রস্তুতি নিয়েছে। খুলনার ৯ উপজেলা ও ৬৮টি ইউনিয়নে দলের একক প্রার্থী দিতে আগামীকাল সোমবার বিকেল ৩টায় প্রেসক্লাবের ব্যাংককুয়েট হলে মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়েছে। আইনমন্ত্রী উপস্থিত থেকে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় দলীয় কর্মীদের কাছে তুলে ধরা হবে।
দলীয় মনোনয়ন নয়, তবে প্রার্থীর ওপর নেপথ্যে দলের আশীর্বাদ থাকবে। দল কয়রা, পাইকগাছা, ডুমুরিয়া ও ফুলতলা উপজেলার ওপর বিশেষ দৃষ্টি দিয়েছে। যে-সব স্থানে সংসদ সদস্য প্রার্থীরা হেরেছেন, সেসব ওয়ার্ড ও ইউনিয়নে জনপ্রিয় প্রার্থী দেওয়ার ক্ষেত্রে কালকের সভায় পরামর্শ দেওয়া হবে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর উপজেলা ও ইউপি চেয়ারম্যানরা আত্মগোপন করে। ইউপিতে প্যানেল চেয়ারম্যান মনোনয়ন দেওয়া হলে উপজেলা পরিষদের মনোনয়ন দেওয়া হয়নি। উপজেলা পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তারা ইউপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেছে। ফলশ্রুতিতে আমলাদের সাথে সাধারণ জনগণের দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছে। ইউপিতে জনপ্রতিনিধিত্ব আনতে ইসি এ মাসেই তফসিল ঘোষণা করবে। বিএনপি সরকার গঠনের পর ইউনিয়ন পরিষদের প্রার্থীরা জোরেশোরে মাঠে নেমেছে। এক একটি ইউনিয়নে গড়ে চারজন প্রার্থী তৎপরতা শুরু করেছে। দলীয় শৃঙ্খলা আনতে জেলা ও নগর শাখা কাল সভার আয়োজন করেছে।
সভায় উপজেলা, ইউনিয়ন পর্যায়ে সভাপতি সাধারণ সম্পাদক, জেলা শাখার আহ্বায়ক, যুগ্ম আহ্বায়ক, সদস্য সচিব মিলে দুইশ’জন, নগর শাখার ১১০ জন ও কেসিসি’র প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জুর অনুসারী ২০ জনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলে দলীয় সূত্র জানায়। এ সভায় আইনমন্ত্রী জেলার উন্নয়ন তৎপরতায় দলের নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণ, তদারকি ও স্বচ্ছতার ওপর গুরুত্বারোপ করবেন। শৃঙ্খলা আনতে একাধিক প্রার্থী না হয় সে ব্যাপারে তাগিদ দেওয়া হবে। জেলা শাখার সদস্য সচিব (ভারপ্রাপ্ত) এসএম মনিরুল হাসান বাপ্পি ইউপি ও উপজেলা নির্বাচনে দলের প্রার্থী থাকবে না বলে এ প্রতিবেদককে জানিয়েছেন। প্রার্থী বাছাইয়ের জন্য একাধিক প্রতিনিধি দল মাঠ পর্যায়ে কাজ করার কথা তিনি উল্লেখ করেন।
প্রার্থী পছন্দ নিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, এক্ষেত্রে তার ব্যক্তিগত পছন্দ থাকবে না। আন্দোলন সংগ্রামে এবং গেল ১৭ বছরে ত্যাগ স্বীকারকারীরাই প্রার্থী হবেন। তার পক্ষ থেকে এ পর্যন্ত কোনো প্রার্থী গ্রিন সিগন্যাল পাননি বলে উল্লেখ করেন।
উল্লেখ করা যেতে পারে, স্বৈরশাসনের আমলে বিএনপি খুলনা জেলায় দলীয় ব্যানারে উপজেলা ও ইউপিতে অংশ নেয়নি। দিঘলিয়া, রূপসা ও কয়রা উপজেলা পরিষদে নির্বাচনে ব্যক্তি পরিচিতিতে কয়েকজন প্রার্থী হয়। পাইকগাছা উপজেলা পরিষদের সর্বশেষ উপ-নির্বাচনে দলের প্রার্থী ডা. আব্দুল মজিদ প্রার্থী হয়ে নিজেকে লুকিয়ে রাখেন। এতে সংগঠনের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়।
খুলনা গেজেট/এনএম

